জামায়াত প্রার্থী অলিউল্লাহ নোমানকে সরিয়ে দেওয়ার পর নির্বাচনী আমেজ নেই হবিগঞ্জ-৪ আসনে
ফাইল ছবি
জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের দাবীতে হবিগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ায় নির্বাচনী আমেজ নেই এই আসনে। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় ছিল। প্রথমে দলটির জেলা আমীর মাওলানা কাজী মোখলেসুর রহমানকে প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করেছিল। তিনি বরাবরই মাঠে প্রচারণায় ছিলেন।
গত পহেলা ডিসেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর আবাসিক সম্পারদক মজলুম সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে এই আসনে জামায়াতের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। মাওলানা মোখলেসুর রহমানও এই প্রার্থীতাকে স্বাগত জানন এবং অলিউল্লাহ নোমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এনিয়ে এই আসনটি ছিল দেশ-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নির্বাচনী প্রচারণায়ও দাড়িপ্লার ঢেউ উঠতে শুরু করেছিল। ২৮ ডিসেম্বরের পর থেকে এই আসনে আর নির্বাচনী আমেজ নেই বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে অলিউল্লাহ নোমান নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর পর এই আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তেমন একটা নেই। ভোটাররা মনে করেন বিএনপি’র প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত শক্ত প্রার্থী হিসাবে ছিলেন অলিউল্লাহ নোমান।
প্রার্থীতা ঘোষণার পরের দিন থেকে নিরলস প্রচারনায় ছিলেন তিনি। সকাল-সন্ধ্যা ভোটারদের কাছে দৌড়াচ্ছিলেন দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে। এলাকায় বেশ সারাও ফেলেছিলেন তিনি। সাধারণ ভোটাররা মনে করা শুরু করেছিলেন শক্ত লড়াই হবে এই আসনে। দুই প্রতিবেশীর লড়াই জমে উঠতেই জোটের চাপে থামিয়ে দেওয়া হয় বিএনপি’র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি অলিউল্লাহ নোমানকে। এতেই এই আসনের নির্বাচনী আমেজও থেমে গেছে। হঠাৎ করেই যেন থমকে দাড়িয়েছে এই আসনের ভোটারদের উৎসাহ।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ করেই অলিউল্লাহ নোমানকে থামিয়ে দেয় জামায়াতে ইসলামী। জানিয়ে দেওয়া হয় আসনটি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহদেম আবদুল কাদেরকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, ড. আহমদ আবদুল কাদের এই আসনে নির্বাচন করতে রাজি ছিলেন না। তাই অলিউল্লাহ নোমানকে লন্ডন থেকে আনা হয় অনুরোধ করে। শেষ পর্যায়ে এসে আহমদ আবদুল কাদের এই আসনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন জোটে। এক পর্যায়ে নির্বাচনী জোট রক্ষার তাগিদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী অলিউল্লাহ নোমানকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে অলিউল্লাহ নোমান বলেন, যাদের অনুরোধে বৃটেনের সবকিছু ত্যাগ করে এসেছিলাম নির্বাচনে অংশ নিতে, আবার তাদের অনুরোধেই সরে দাড়াতে হয়েছে।
এদিকে খেলাফত মজলিসের কোন রকমের সাংগঠনিক ভিত্তি এই নির্বাচনী এলাকায় নেই।
সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকায় আহমদ আবদুল কাদেরকে এই আসনে প্রচার-প্রচারনায়ও দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মনোনয়ন ২৮ ডিসেম্বর চুড়ান্ত হলেও এখনো কোন রকমের প্রচারণায় নেই খেলাফত মজলিস এবং আহমদ আবদুল কাদের।
অপরদিকে মাধবপুর-চুনারুঘাটে, দুই উপজেলায়ই রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম। অলিউল্লাহ নোমানকে প্রার্থী হিসাবে পেয়ে দুই উপজেলার নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলেন। দিন-রাত পরিশ্রমে ছিলেন প্রচারণায়। অলিউল্লাহ নোমান সরে যেতে বাধ্য হওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়ে নির্বাচনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।
দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছেন সর্বস্থরেই হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মতে দীর্ঘদিন পর হলেও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় একজন প্রার্থী পাওয়া গিয়েছিল। চা-বাগান ও উপজাতি অধ্যুষিত এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতো।
এবারই প্রথম নৌকাবিহীন ব্যালটে জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল প্রার্থীকে কেন্দ্র করে। অলিউল্লাহ নোমান প্রাথী হওয়ার পর চা-বাগানের উপ-জাতি অধ্যূষিত এলাকা গুলোতেও দাড়িপাল্লার ঢেউ উঠেছিল।
অথচ, আসনটি জোটের দোহাই দিয়ে কেড়ে নিলেও নির্বাচনের মাত্র ২৮দিন বাকী থাকতেও আহমদ আবদুল কাদেরের কোন রকমের প্রচারণাই নেই। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, ড. আহমদ আবদুল কাদের কোন একজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে আসনটি নিতে চাপ দিয়েছেন জোটে। যাতে ওই প্রার্থীর বিজয় সহজ করে দেওয়া যায়। কারণ, ড. আহমদ আবদুল কাদেরের দল খেলাফত মজলিসের যেমন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং জনপ্রিয়তাও নেই ভোটারের মাঝে। ভোটারদের কাছে তাঁর পরিচয় হল ভোট আসলেই তিনি প্রার্থী হয়ে এলাকায় আসেন।
২০১৮ সালে তিনি প্রার্থী ছিলেন বিএনপি’র সাথে জোটে। ধানের শীর্ষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন জোটের প্রার্থী হিসাবে। ভোটারদের মতে ২০১৮ সালের ভোটের দিন বিকাল থেকেই তিনি উধাও ছিলেন। তাঁর সাথে ভোটের প্রচারণায় থাকার কারণে অনেকেই ফ্যাসিবাদের নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অনেকেই গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেছিলেন। কিন্তু কারো বিষয়ে আহমদ আবদুল কাদের খোঁজ-খবর নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টা লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
২০১৮ সালের পর হঠাৎ করেই গত ২৮ ডিসেম্বর ভোটাররা শুনতে পান জনপ্রিয় প্রার্থী অলিউল্লাহ নোমানকে সরে যেতে হয়েছে আহমদ আবদুল কাদেরের চাপে। জোটে তিনি এতটাই চাপ দেন জামায়াতে ইসলামী বাধ্য হয় লন্ডন থেকে ডেকে আনা প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে।
এই আসনে এখন দৃশ্যমান প্রচারণায় রয়েছে ইসলামী ফ্রন্টের বিতর্কিত ওয়ায়েজ মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ও বিএনপি’র সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানও প্রচারণায় আছেন।
কমেন্ট বক্স