ফাইল ছবি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিয়ের আশ্বাসে এক কিশোরীকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে জসিম মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই কিশোরী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের দাবি। তবে কোথাও কোথাও ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। বিয়ে না করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য জসিম ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিতে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে জসিম মিয়া ও ওই কিশোরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে মৌখিকভাবে বিয়ের পর তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেন। পরে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলে জসিম তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে রাজি হন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জসিম মিয়াকে ওই কিশোরীকে দ্রুত বিয়ে করার জন্য নির্দেশ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সালিশের কয়েক দিন পর জসিম ও তাঁর পরিবার বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, বর্তমানে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি বর্তমানে জগদীশপুর ইউনিয়নে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানেও তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
ভুক্তভোগী বলেন, “জসিম আমাকে বিয়ে করতে রাজি ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিবারের চাপের কারণে সে বিয়ে করতে চাইছে না। অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমার বাচ্চা নষ্ট করতে চাইছে। আমি হাসপাতালে যেতে চাইলেও আমাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিবর্তে তাঁকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, “এ ধরনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উচিত দ্রুত এগিয়ে এসে বিষয়টির আইনগত সমাধান করা।”
অভিযোগের বিষয়ে জসিম মিয়া বলেন, “আমিও তাকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু পরিবার ও কিছু নেতার চাপের মুখে রয়েছি। আমি চাই প্রশাসন আমার স্ত্রীকে রক্ষা করুক।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।